চট্টগ্রামে আয়োজিত জশনে জুলুসকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় জুলুস হিসেবে রেকর্ড বইয়ে নাম তুলতে গিনেজ বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ড কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেনি জুলুস আয়োজনকারী সংস্থা আনজুমান-ই-রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্ট। ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে এই জুলুসটি আয়োজন করা হয়।
স্ট্রাস্টের মহাসচিব বলছেন, ‘এখনও সরাসরি আবেদন করিনি। ফলে গিনেজ বুক কর্তৃপক্ষ রোববার জুলুস দেখতে কোনো পর্যবেক্ষণকারী দল পাঠাচ্ছে না। তবে ভক্তদের দাবির কারণে ভবিষ্যতে আবেদন করা হবে।’
এবারের জুলুসে নেতৃত্ব দিতে এর মধ্যেই পাকিস্তান থেকে চট্টগ্রামে এসে পৌঁছেছেন আল্লামা তাহের শাহ। রোববার (৯ অক্টোবর) সকাল ৯টায় ষোলশহর জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদ্রাসা সংলগ্ন আলমগীর খানকাহ-এ কাদেরিয়া সৈয়দিয়া তৈয়্যবিয়া থেকে এই জুলুস শুরু হবে। এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন আনজুমান-ই-রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্টের মহাসচিব মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন।
এর আগে তাকে উদ্ধৃত করে দেশের একাধিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়, চট্টগ্রামের জশনে জুলুসকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় জুলুস হিসেবে স্বীকৃতি দিতে গিনেজ বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ড কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছে আঞ্জুমান ই জুলুস কর্তৃপক্ষ। এতে সাড়া দিয়ে এবারের জুলুস পর্যবেক্ষণে চট্টগ্রাম আসছে গিনেজ বুক অব ওয়ার্ল্ড কর্তৃপক্ষের টিম।
ওই টিমটি চট্টগ্রামে এসেছে কি না জানতে শনিবার (৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ট্রাস্টের মহাসচিব মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়।
এসময় তিনি বলেন, ‘নাহ এমন কোন টিম আসেনি। আমরা এমন কোন আবেদনও করিনি। তবে সামনে করব।’
তাহলে গিনেজ বুক অব রেকর্ডের বিষয়ে তাঁদের দাবির বিষয়টি আসলে কি রকম? প্রতিদিনের বাংলাদেশের এমন প্রশ্নের জবাবে আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘আসলে আমরা বিভিন্ন সময় বক্তব্যে এমন দাবির কথা বলেছি, এটি গিনেজ বুকে স্থান পাওয়া উচিত। কিন্তু এ জন্য তাদের সাথে কোন যোগাযোগ আমরা করিনি। অফিসিয়ালি কোন আবেদনও করিনি। তবে সামনে আমরা অফিসিয়ালি আবেদন করব।’
এই আবেদন প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে এর মধ্যে একটি কমিটি করা হয়েছে জানিয়ে আনজুমান-ই-রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্টের অঙ্গ সংগঠন গাউসিয়া কমিটি বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক মোছাহেব উদ্দিন বখতিয়ার বলেন, ‘এটি নিয়ে মৌখিক দাবি থাকলেও আমরা কোন অফিসিয়াল প্রক্রিয়া শুরু করিনি। কিন্তু এবার এটা নিয়ে অনেক আলোচনা হচ্ছে, তাই ভবিষ্যতে অফিসিয়ালি আবেদন করব। কীভাবে কী করতে হবে সেজন্য একটা কমিটিও করা হবে।’
তিনি বলেন, ‘১৯৮৬ সাল থেকে ৩৫ বারের মতো জুলুসে নেতৃত্ব দিতে চট্টগ্রামে এসেছেন আল্লামা তাহের শাহ।’
১৯৭৪ সালে চট্টগ্রামে বলুয়ারদিঘী খানকা-এ কাদেরিয়া সৈয়্যদিয়া তৈয়্যবিয়া থেকে বাংলাদেশে সর্বপ্রথম জুলসটি বের করে আঞ্জুমান-এ-রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্ট। ১৯৭৬ সাল থেকে ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত জুলুসে নেতৃত্ব দেন পাকিস্তানের ছিরিকোট দরবার শরীফের পীর সৈয়দ মোহাম্মদ তৈয়ব শাহ (রা.)।
১৯৮৬ সাল থেকে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন সৈয়দ মোহাম্মদ তৈয়ব শাহের সন্তান সৈয়দ মুহাম্মদ তাহের শাহ। এই জুলুসে লাখো লোক সমাগম হয়।
রোববারের জুলুসকে কেন্দ্র করে শেষ হয়েছে সার্বিক প্রস্তুতির কাজ। চট্টগ্রামের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আলোকসজ্জার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে ট্রাস্টের।-প্রতিদিনের সংবাদ








