বৃহস্পতিবার রাখাইনে পিপলস ডিফেন্স ফোর্সেস (পিডিএফ) এবং জাতিগত সশস্ত্র সংস্থা (ইএও)- এর সঙ্গে লড়াইয়ে জান্তা সরকারের চার সেনা ক্যাপ্টেন এবং জান্তা তথ্যদাতাসহ ২০ জনের বেশি সেনা নিহত হয়েছে। পাশাপাশি দেশটির কারেন রাজ্য, মান্দাল, সাগাইং এবং ইয়াঙ্গুনের বেশ কয়েকটি অঞ্চলে কয়েকজন প্রতিরোধ যোদ্ধাও নিহত হয়। খবর দ্য ইরাবতীর।
বৃহস্পতিবার মান্দালেতে দুই রাজনৈতিক বন্দিকে উদ্ধার করা হয়। সেসময় ট্রুথ কিপিং ফোর্স-অমরাপুরার প্রতিরোধ যোদ্ধারা অমরাপুরা টাউনশিপে আট বন্দি বহনকারী একটি গাড়িতে অতর্কিত হামলা চালায়। বন্দীদের কিউকসে থানা থেকে মান্দালয়ের ওবো কারাগারে স্থানান্তর করা হচ্ছিল।
জান্তা প্রধান সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লাইং মান্দালেতে বেড়াতে যাওয়ার সময় অতর্কিত হামলায় দুই পুলিশ মারা যায় বলেও জানিয়েছে ইরাবতী।
বৃহস্পতিবার ইয়াঙ্গুনে দুটি হামলায় একজন জান্তা পুলিশ সদস্য এবং সরকার প্রশাসনের দুই কর্মী নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে ইয়াঙ্গুন শহরের কেন্দ্রস্থলে একটি ধর্মীয় ভবন পাহারা দেওয়ার সময় পুলিশ কর্মকর্তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। হামলার পর, শাসক বাহিনী একজন পাসিং ট্রিশা চালক এবং পুরুষ বেসামরিক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যা করেছে বলে জানা গেছে।
সাউথ দাগন টাউনশিপে জান্তা প্রশাসনের অংশ এবং সামরিক বাহিনীর প্রক্সি ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টির (ইউএসডিপি) সদস্য দাও নিউ নি হ্লাইংকে হত্যা করেছে বলে দাবি করেছে সাউথ দাগন গেরিলা ফোর্স। প্রতিরোধ গোষ্ঠীর দাবি, নিহত ব্যক্তি একজন জান্তা তথ্যদাতা এবং ইয়াঙ্গুনে শাসকপন্থী সমাবেশের সংগঠক। দাও নিউ নি হ্লাইংকে বাঁচানোর চেষ্টা করার সময় সাউথ দাগনের আরেক কর্মকর্তাও মারা যান।
স্থানীয় মিডিয়া জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার আরাকান আর্মির (এএ) হামলায় রাখাইন রাজ্যের পোন্নাগিউন, রাথেদাউং এবং মরাউক-উ শহরে ১২ সৈন্য নিহত হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে মাইন হামলায় মরাউক-ইউ টাউনশিপের মাউং সাওয়ে গ্রামের কাছে ১০ সৈন্য নিহত হয়।
মরাউক-ইউ-ভিত্তিক ব্যাটালিয়ন ৩৭৮ এর সেনা বাহিনী মং সাওয়ে গ্রামকে লক্ষ্য করে আর্টিলারি হামলা করে প্রতিক্রিয়া জানালে তিন বছর বয়সী এক মেয়ে শিশু এবং ১৪ বছর বয়সী আরেকজন আহত হয়। সংঘর্ষের পর জান্তা বাহিনী ১০ জন গ্রামবাসীকে আটক করেছে বলে জানা গেছে।
ওয়েস্টার্ন নিউজ এএ কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছে, কিউকতাও এবং পোন্নাগিউন টাউনশিপের সীমান্তে দুই জান্তা সৈন্য নিহত এবং আরও পাঁচজন আহত হয়। খাদ্য সরবরাহ সংগ্রহ করতে যাওয়ার সময় তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় আরাকান আর্মির যোদ্ধারা।
অন্যদিকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উত্তর শান রাজ্যের নামখামে চার সেনা নিহত হয়। নিহত সেনাদের মধ্যে দুজন ডাক্তার ছিলেন। প্রতিরোধ গোষ্ঠীরা তাদের গাড়িতে বোমা হামলা করে হত্যাকাণ্ডটি ঘটায় বলে স্থানীয় মিডিয়া জানিয়েছে।
এছাড়াও মিয়ানমারের সোম রাজ্য, মাওবাতী এবং সাগাইং অঞ্চলে একাধিক হামলা চালিয়েছে প্রতিরোধ গোষ্ঠীরা। প্রতিদিনই দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে প্রতিরোধ গোষ্ঠীর প্রতিরোধ হামলার মুখোমুখি হচ্ছে জান্তা সরকার।








