ফুটবল বিশ্বকাপ এলেই বাড়ে ব্যস্ততা

প্রকাশ:

ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবলের উন্মাদনা শুরু হতে না হতেই বদলে যায় চট্টগ্রাম নগরীর সিনেমা প্যালেস এলাকার পরিচিত চিত্র। চারদিকে যখন প্রিয় দলের জার্সি, পোস্টার আর পতাকা নিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের ব্যস্ততা, তখন অন্যরকম এক উৎসবে মেতে ওঠেন পতাকা প্রস্তুতকারক আবু আহমেদ। বিশ্বকাপ এলেই তাঁর দোকানে শুরু হয় নিরলস কর্মযজ্ঞ।

প্রায় ৩০ বছর ধরে বিভিন্ন দেশের ফুটবল দলের পতাকা তৈরি করছেন আবু আহমেদ।

বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে ফুটবলপ্রেমীদের আবেগ ও উচ্ছ্বাসই তাঁর ব্যবসার প্রধান চালিকাশক্তি। বছরের অন্যান্য সময়ের তুলনায় বিশ্বকাপের মৌসুমে ব্যস্ততা কয়েক গুণ বেড়ে যায়।

আবু আহমেদ জানান, বিশ্বকাপ সামনে রেখে তিনি গত মার্চ মাস থেকেই পতাকা তৈরির কাজ শুরু করেন। কয়েক মাস ধরে চলে কাপড় সংগ্রহ, নকশা তৈরি, কাটিং ও সেলাইয়ের কাজ।

ইতোমধ্যে তিনি বিভিন্ন দেশের হাজার হাজার পতাকা তৈরি করেছেন। তাঁর ভাষায়, ‘কোন দলের পতাকা বেশি বিক্রি হবে, সেটা সমর্থকদের আগ্রহের ওপর নির্ভর করে। তবে আর্জেন্টিনা আর ব্রাজিলের পতাকার চাহিদা সবসময়ই বেশি থাকে’।

তাঁর দোকানে দেখা যায়, সারি সারি কাপড়ের স্তূপ, সেলাই মেশিনের অবিরাম শব্দ আর কর্মীদের ব্যস্ত পদচারণা। আকাশি-সাদা রঙের আর্জেন্টিনার পতাকা এবং সবুজ-হলুদ রঙের ব্রাজিলের পতাকাই সবচেয়ে বেশি তৈরি হচ্ছে। পাশাপাশি জার্মানি, পর্তুগাল, স্পেন ও ফ্রান্সের পতাকারও উল্লেখযোগ্য চাহিদা রয়েছে।

বিশ্বকাপ ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় উড়তে শুরু করেছে নানা দেশের পতাকা। বাড়ির ছাদ, বারান্দা, দোকানপাট এবং সড়কের পাশে চোখে পড়ছে প্রিয় দলের রঙিন পতাকা। ফুটবলপ্রেমীরা নিজেদের সমর্থন প্রকাশে কিনছেন বিভিন্ন আকারের পতাকা। ফলে বিক্রিও বেড়েছে কয়েক গুণ।

আবু আহমেদের কাছে বিশ্বকাপ শুধু ব্যবসার সুযোগ নয়, এটি তাঁর দীর্ঘদিনের আবেগেরও অংশ। তিন দশক ধরে বিশ্বকাপের প্রতিটি আসরকে ঘিরে তিনি যেমন নতুন উদ্যমে কাজ করেন, তেমনি উপভোগ করেন ফুটবল উৎসবের আনন্দও। তাঁর তৈরি পতাকা যখন নগরীর অলিগলি, ছাদ আর মাঠে উড়তে থাকে, তখন সেই আনন্দ যেন আরও গভীর হয়ে ওঠে।

বিশ্বকাপের উত্তাপ যত বাড়ছে, ততই ব্যস্ত হয়ে উঠছেন আবু আহমেদ। সেলাই মেশিনের অবিরাম শব্দ আর রঙিন কাপড়ের সমারোহে তাঁর কর্মশালা যেন হয়ে উঠেছে ফুটবল উৎসবের এক ক্ষুদ্র প্রতিচ্ছবি।

এই সম্পর্কিত অন্যান্য খবর