লিপেতস্ক ও ভোরোনেভ অঞ্চলের সীমান্তে মস্কোতে যাওয়ার প্রধান সড়ক এম-৪ (হাইওয়ে) বন্ধ করে দিয়েছে রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর সদস্যরা। এমনটাই জানিয়েছেন লিপেতস্কের আঞ্চলিক গভর্নর।
এর আগে হাইওয়েটিতে রাশিয়ার সেনাদের অবস্থান নেওয়ার বিষয়টিও জানিয়েছিলেন তিনি। এই সড়কটিই রোস্তভ অঞ্চলের রাজধানী রোস্তভ-অন-ডনের সঙ্গে মস্কোকে সংযুক্ত করেছে।
এরই মধ্যে রোস্তভ অঞ্চলে ওয়াগনার সেনাদের দেখা গেছে। প্রিগোজিনও জানিয়েছেন, তার ভাড়াটে সেনারা ইউক্রেন থেকে অঞ্চলটিতে প্রবেশ করেছে। তাদের লক্ষ্য, মস্কোর সামরিক নেতৃত্বের পতন ঘটানো।
এদিকে ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে বিদ্রোহকে উস্কে দেওয়ার দায়ে প্রিগোজিনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি পদক্ষেপ গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে সবশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত করা হয়েছে।
ওয়াগনার প্রধানের অভিযোগ তার বাহিনীর বিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃতভাবে মস্কোর সামরিক নেতৃত্ব ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এতে হতাহত হয়েছে বহু ওয়াগনার সেনা। এরপরই তিনি মস্কোর জেনারেলদের শায়েস্তা করার ঘোষণা দেন। যদিও মস্কোর পক্ষ থেকে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর বিষয়টি অস্বীকার করা হয়েছে।
প্রিগোজিন আরও দাবি করেছেন, রাশিয়ার সাধারণ জনগণের ওপর হামলা চালানোয় তার যোদ্ধারা সামরিক বাহিনীর একটি হেলিকপ্টারকে গুলি করে ভূপাতিত করেছে।
এদিকে রাশিয়ার অ্যারোস্পেস বাহিনীর কমান্ডার সের্গেই সুরোকিভিন, ওয়াগনার প্রধান ও ভাড়াটে যোদ্ধাদের থামতে বলেছেন ও প্রেসিডেন্ট পুতিনের আনুগত্য বজায় রাখতে আহ্বান জানিয়েছেন।
টেলিগ্রামে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, ‘আমি ওয়াগনারের নেতৃত্ব, কমান্ডার ও যোদ্ধাদের বলছি। আমরা একসঙ্গে একটি কঠিন পথ অতিক্রম করেছি। আমরা একসঙ্গে লড়েছি, ঝুঁকি নিয়েছি, ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছি এবং একসঙ্গে জিতেছি। আমরা একই রক্ত। আমরা যোদ্ধা। আমি আপনাদের থামতে অনুরোধ করছি। শত্রুরা কেবল আমাদের দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি খারাপ হওয়ার জন্য অপেক্ষা করছে।’
সুরোকিভিন আরও বলেন, ‘দেশের এমন কঠিন সময়ে আপনি শত্রুর খেলার পুতুল হতে পারেন না। খুব বেশি দেরি হওয়ার আগেই জনগণের দ্বারা নির্বাচিত রাশিয়ান ফেডারেশনের প্রেসিডেন্টের ইচ্ছে মেনে চলুন।’








