হারিয়ে যাওয়া মাকে পেলেন ২৩ বছর পর

প্রকাশ:

সীমান্তের শূন্যরেখায় দাঁড়িয়ে বারবার তাকাচ্ছিলেন ওপারে– এই বুঝি আসছেন মা। কখন শেষ হবে ২৩ বছরের অপেক্ষার অবসান! প্রতীক্ষা যেন কিছুতেই শেষ হচ্ছে না। এ সময় মেয়ের মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছিল নানা চিন্তা। মা এখন দেখতে কেমন হবে? কীভাবে আসবেন তিনি? সব প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে গতকাল শুক্রবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া চেকপোস্ট দিয়ে বাংলাদেশে আসেন ফজিলা খাতুন নেছা। ১২ বছর বয়সে হারানো মাকে ফিরে পেয়ে আবেগাপ্লুত পিঞ্জিরা আক্তার।

 

পিঞ্জিরা আক্তারের বাড়ি ঝিনাইদহ সদর উপজেলার বিষয়খালী গ্রামে। তিনি এখন চার সন্তানের জননী।

 

শুক্রবার সকাল থেকেই ত্রিপুরা সীমান্তের এপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের নো ম্যান্স ল্যান্ডে মায়ের জন্য অপেক্ষা করছিলেন পিঞ্জিরা আক্তার। সঙ্গে ছিলেন তার স্বামী আব্দুল হালিম শেখ ও মামাতো ভাই মো. জালাল উদ্দিন। বেলা আড়াইটায় ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের আগরতলায় নিযুক্ত বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনার আরিফ মোহাম্মদ ফজিলা খাতুন নেছাকে আখাউড়া-আগরতলা সীমান্তের শূন্যরেখায় নিয়ে আসেন। এ সময় মাকে কাছে পেয়ে আনন্দাশ্রুতে আবেগঘন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

 

ফজিলা খাতুনের মেয়ে পিঞ্জিরা আক্তার বলেন, আত্মীয়স্বজনের কাছে শুনেছি আমার বয়স যখন দুই-তিন বছর, তখন বাবা মারা যান। সে সময় আমাকে নিয়ে আমার মা কষ্টে সংসার চালান। পরে আমাকে একটি এতিমখানায় দিয়ে দেন তিনি। সে সময় মা অন্যের বাড়িতে কাজ করে জীবনযাপন করেন। একপর্যায়ে আমার মায়ের মানসিক ভারসাম্যহীনতা দেখা যায়। একদিন এতিমখানা থেকেই খবর পাই আমার মা হারিয়ে গেছে। তখন আমার বয়স ১২ বছর।

 

তিনি বলেন, বহু খোঁজাখুঁজির পরও সন্ধান না পেয়ে মাকে পাওয়ার আশা ছেড়ে দিয়েছিলাম। এরই মধ্যে এতিমখানায় লেখাপড়া শেষে আমার বিয়ে হয়। আমার এখন চার সন্তান। এতদিন মা আমাদের কাছে মৃত ছিল। তবে গত বছরের আগস্টে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে খবর পাই মা জীবিত আছেন এবং তিনি ভারতে রয়েছেন।

 

ত্রিপুরায় অবস্থিত বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনার আরিফ মোহাম্মদ বলেন, দীর্ঘ ২৩ বছর পর হারিয়ে যাওয়া এক মাকে তার সন্তানের কাছে পৌঁছে দিয়েছি। তিনি মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। তিনি নিজ বাড়ি থেকে হারিয়ে যান। তার পরিবারের লোকজন তাকে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও পায়নি। পরবর্তীতে কোনো এক সময় তাকে ত্রিপুরায় পাওয়া যায়। পরে তাকে চিকিৎসা দেওয়া হয়। ত্রিপুরা পুলিশ আমাকে তার কথা জানায়। আমি বাংলাদেশ সরকারের কাছে তার তথ্য পাঠিয়ে তার নাগরিকত্ব যাচাই করে ভারত সরকারকে অবহিত করি। ভারত সরকারের অনুমতিসাপেক্ষে আজকে তাকে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছি। তিনি ত্রিপুরা রাজ্য সরকারকে ধন্যবাদ জানান।

 

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ভারতীয় হাইকমিশনের প্রথম সচিব মো. রেজাউল হক চৌধুরী, মো. আল আমিন, ৪২ বিএসএফ আগরতলা আইসিপির কোম্পানি কমান্ডার ধিবেকান দিমান, আখাউড়া ইমিগ্রেশন পুলিশের ইনচার্জ হাসান আহমেদ ভূঁইয়া, বিজিবি আখাউড়া আইসিপির ইনচার্জ মো. শাহ আলম, ইমিগ্রেশন পুলিশের এএসআই দেওয়ান মুর্শেদুল হক প্রমুখ।

এই সম্পর্কিত অন্যান্য খবর