চট্টগ্রামে জাতীয় সংবিধান দিবস পালিত

প্রকাশ:

 

সারাদেশের ন্যায় চট্টগ্রামেও প্রথমবারের মতো জাতীয় সংবিধান দিবস পালন করা হয়েছে। এ উপলক্ষ্যে আজ শুক্রবার বিকাল ৩:৩০ ঘটিকায় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

চট্টগ্রামের বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত “জাতীয় সংবিধান দিবস” উপলক্ষ্যে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনাব মো: আশরাফ উদ্দিন, বিভাগীয় কমিশনার, চট্টগ্রাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড. প্রকাশ কান্তি চৌধুরী, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার, চট্টগ্রাম; জনাব এম এ মাসুদ, অতিরিক্ত কমিশনার (প্রশাসন ও অর্থ), চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ; জনাব প্রবীর কুমার রায়, পিপিএম (বার), অতিরিক্ত ডিআইজি (প্রশাসন ও অর্থ), চট্টগ্রাম রেঞ্জ; জনাব এ কে এম সরওয়ার কামাল, ভারপ্রাপ্ত কমান্ডার, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, চট্টগ্রাম জেলা ইউনিট কমান্ড; জনাব মাহফুজুল হক শাহ, সাবেক পরিচালক, চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি। উক্ত আলোচনা সভায় জনাব মোহাম্মদ মমিনুর রহমান, জেলা প্রশাসক, চট্টগ্রাম সভাপতিত্ব করেন। আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন জনাব সুমনী আক্তার, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, চট্টগ্রাম; জনাব আবু রায়হান দোলন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি), চট্টগ্রামসহ বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ, বীর মুক্তিযোদ্ধাবৃন্দ, এনজিও এবং ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিবৃন্দ, সাংবাদিকবৃন্দসহ প্রমুখ।

জনাব মাহফুজুল হক শাহ, সাবেক পরিচালক, চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি, বলেন যে, ৯০% মানুষ সংবিধান জানেন না। সংবিধান জানেন না বলেই এখনো অনেক নাগরিক তাদের অধিকার, বাংলাদেশের ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমন্ধে সচেতন নয়। সংবিধানের চেতনার সাথে যাদের মতাদর্শ মিলে না তাদেরকে রাজিনীতি থেকে নিষিদ্ধ করা উচিত। ভারপ্রাপ্ত কমান্ডার, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, চট্টগ্রাম জেলা ইউনিট কমান্ড বীর মুক্তিযোদ্ধা জনাব এ কে এম সরওয়ার কামাল তাঁর বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশের সংবিধান কে জানতে হবে। বঙ্গবন্ধু যে উদ্দেশ্যে সংবিধান প্রণয়ন করেছিলেন সেই উদ্দেশ্য পূরণ করতে হবে। জনাব এম এ মাসুদ, অতিরিক্ত কমিশনার (প্রশাসন ও অর্থ), চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ বলেন, বাংলাদেশের সংবিধান স্মার্ট সংবিধান। এটা এতোটা পরিবর্তন করার প্রয়োজন হয় নাই বঙ্গবন্ধুর আমলে। এরপর স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিরোধী চক্র বাংলাদেশের সংবিধানের মূল চেতনাকে ক্ষত-বিক্ষত করে। ড. প্রকাশ কান্তি চৌধুরী, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার, চট্টগ্রাম, বলেন যে, নতুন প্রজন্মকে বাংলাদেশের সংবিধান যে উদ্দেশ্যে প্রণীত হয়েছে সে চেতনায় প্রথীত করার জন্য জাতীয় সংবিধান দিবস পালন করা হচ্ছে। দেশ পরিচালনায় সংবিধানের প্রাধান্য নিশ্চিত করার জন্য নাগরিক সম্পৃক্ততা একান্ত জরুরি।

জনাব মো: আশরাফ উদ্দিন, বিভাগীয় কমিশনার, চট্টগ্রাম সংবিধানের সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো শিক্ষা ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত করার উপর গুরুত্বারোপ করেন যাতে শিশু-কিশোররা তাদের অধিকার, দায়িত্ব-কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন হয়ে ঔপনিবেশিক শাসন ব্যবস্থা থেকে বের হয়ে জনবান্ধব শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে পারে। অগণতান্ত্রিক শক্তি যেনো মহান সংবিধানের আর কোনো ক্ষতিসাধন না করতে পারে। জনাব মোহাম্মদ মমিনুর রহমান, জেলা প্রশাসক, চট্টগ্রাম বলেন, গোষ্ঠী স্বার্থে কেউ যেনো আর সংবিধানের অপব্যবহার করতে না পারে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। আইন দৃষ্টিতে সকল নাগরিকের সমঅধিকার নিশ্চিত করার মাধ্যমে দেশের সংবিধানের পবিত্রতা নিশ্চিত করতে হবে। অভূতপূর্ব উন্নয়নের অগ্রযাত্রা ধরে রেখে ২০৪১ সালের আগেই জাতির পিতার সোনার বাংলা বিনির্মাণ করতে হবে।

উল্লেখ্য যে, ১৯৭২ সালের আজকের এই দিনে গণপরিষদে বাংলাদেশের সংবিধান গৃহীত হয়। গত ৩১ অক্টোবরে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা বৈঠকে সংবিধান প্রণয়নের সুবর্ণজয়ন্তীতে প্রতি বছর ৪ নভেম্বর তারিখকে ‘জাতীয় সংবিধান দিবস’ হিসাবে পালনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। গত ২ নভেম্বর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ৪ নভেম্বর তারিখকে ‘জাতীয় সংবিধান দিবস’ ঘোষণা করেছে ও জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস উদযাপন/পালন সংক্রান্ত পরিপত্রে ‘ক’ শ্রেণিভুক্ত দিবস হিসাবে অন্তর্ভুক্ত করেছে। এখন থেকে প্রতি বছর ৪ নভেম্বর যথাযথ মর্যাদায় “জাতীয় সংবিধান দিবস” উদযাপন করা হবে।

এই সম্পর্কিত অন্যান্য খবর