আগামীকাল থেকে আমিরাতে শুরু হচ্ছে ৩ দিন ব্যাপী বই মেলা

প্রকাশ:

সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাংলাদেশ কনসুলেট প্রাঙ্গনে আগামীকাল থেকে ৩ দিন ব্যাপী বইমেলা ও বঙ্গ সংস্কৃতি উৎসবের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল দুবাই ও উত্তর আমিরাত। এ নিয়ে চলছে শেষ মুহুর্তের প্রস্তুতি।

বইমেলা নিয়ে বাংলাদেশের বইপাড়ায়ও শুরু হয়েছে তোর জোয়ার। মেলার সার্বিক প্রস্তুতি অনেকাংশে সম্পন্ন করেছে আয়োজকেরা। প্রবাসীদের নিয়ে প্রথমবারের মত আয়োজিত এই বইমেলা ইতিমধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। ইতিমধ্যে মেলার প্রায় ৯০ ভাগ প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। মেলার অবকাঠামোগত কাজের অগ্রগতি হয়েছে অনেকাংশে। বৈচিত্রতা নিয়ে আসার জন্য একটি সৃজনশীল টিম অবিরাম কাজ করে যাচ্ছে। সাংস্কৃতিক আয়োজনকে মনমুগ্ধ করে তোলার জন্য বাংলাদেশী ও পশ্চিম বাংলার শিল্পীরা ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে।

জানা যায়, মেলায় যেখানে ৫০ টি স্টল বরাদ্দ রাখার কথা ছিল। সেখানে চাহিদার কারণে স্টল সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এখন ৭৩টি। মেলাটি দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত হওয়ার কারণে আন্তর্জাতিক কবি সাহিত্যিকদের মিলন মেলায় পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ঢাকা থেকে যোগ দিচ্ছে ত্রিশটি প্রসিদ্ধ প্রকাশনা সংস্থা। প্রবাসে অবস্থানরত কবি সাহিত্যিকদের মানসম্মত বই যাচাই-বাছাই করে মেলায় উপস্থাপনের জন্য জায়গা করে দেওয়া হচ্ছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বর্ণাঢ্য করে তোলার জন্য নেওয়া হয়েছে ভিন্নধর্মী আয়োজন। এই দিন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী, এমপি।

মেলা উদ্বোধন করবেন প্রখ্যাত কবি ও প্রধানমন্ত্রীর সাবেক মুখ্য সচিব কবি কামাল আব্দুল নাসের চৌধুরী। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি মোহাম্মদ নুরুল হুদা।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন আমিরাতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আবু জাফর।

সার্বিক বিষয়ে বি এম জামাল হোসেন বলেন, কনস্যুলেট প্রাঙ্গণে এই প্রথম তিন দিনব্যাপি বইমেলার আয়োজন করা হচ্ছে। বস্তুত, আমাদের উদ্দেশ্য মানসম্পন্ন লেখক তৈরি করা এবং পাঠক আগ্রহ সৃষ্টি করা। আমরা ইতোমধ্যে প্রবাসীদের থেকে সন্তোষজনক সাড়া পেয়েছি। বাংলাদেশ বইমেলা স্থায়ী প্রবর্ত্তন করা এবং আগামীতে এই মেলায় পরিসর আরও বাড়ানোর ও প্রতি বছর নভেম্বর করার পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনদিন ব‍্যাপ্তি এই অনুষ্ঠানে যে কর্মশালা, সেমিনার থাকবে সেখানে এই কবি সাহিত্যিকরা অংশগ্রহণ করবে। সংস্কৃতিক আয়োজন ছাড়াও আরও কিছু আয়োজন আছে যেখানে প্রতিদিনই নতুন নতুন কিছু জিনিস থাকবে। বাংলাদেশ ছাড়াও ভারতের উড়িষ্যা, আসাম থেকে কবি সাহিত্যিক অংশগ্রহণ করবে। এছাড়া আরব আমিরাতের কবি সাহিত্যিকরাও অংশগ্রহণ করবে। ব্রিটেন থেকে দুইজন ব্রিটিশ লেখক ও দুইজন কবি অংশগ্রহণ করবে। সবমিলিয়ে এটি একটি আন্তর্জাতিক চরিত্র লাভ করবে যদিও এটি বাংলাদেশ বই মেলা।

প্রস্তুতির বিষয়ে তিনি বলেন, ইতোমধ্যে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। প্রস্তুতি সন্তোষজনক। সবকিছু ঠিক থাকলে কাল যথাসময়ে মেলার উদ্বোধন হবে।

বাংলাদেশ প্রেসক্লাব ইউএই সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসান জনি বলেন, বই মেলাকে ঘিরে আমিরাতে প্রবাসীদের আগ্রহের কমতি নেই। আমরা যারা প্রবাসী আছি, প্রবাসে থেকেও যে সাহিত্যচর্চা করা যায় ও বাংলা বাংলা ভাষা চর্চা করা যায়, সাহিত্যের যে শাখাগুলো আছে সেখানে বিচরণ করা যায়, তার জন্য আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি। এই বইমেলার মাধ্যমে প্রবাসীদের এক মাইলফলক যোগ হবে। এতে করে প্রবাসীরা বই লিখতে ও পড়তে আরো বেশি উৎসাহিত হবেন। ভবিষ্যতে প্রবাস থেকে ভালো ভালো লেখক তৈরি হবে বলে আমার বিশ্বাস।

বৃহওর ফরিদপুর সমিতি সভাপতি মুকুল আহমেদ জানান,আমরা যারা দেশের বাইরে আছি এবং দেশের সেই গল্প উপন্যাস পরা কে সব সময় মিস করি। আশা করি এই বইমেলা মাধ্যমে আমাদের সেই মনের খোরাক লাঘব হবে।মান্যবর কনসাল জেনারেল বি এম জামাল হোসেন এই অভুতপূর্ব আয়োজন দুবাই ও উত্তর আমিরাতসহ পুরো সংযুক্ত আরব আমিরাতি বাংলাদেশিদের সাহিত্যের মনের ক্ষুধা মিঠাবে বলে আমার বিশ্বাস।

এই সম্পর্কিত অন্যান্য খবর