চসিকের ময়লার ডিপোতে ‌’টাকার খনি’ পেল টোকাইরা!

প্রকাশ:

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) ৩৭নম্বর ওয়ার্ড উত্তর মধ্যম হালিশহরের সমুদ্র উপকূলের আনন্দবাজার এলাকায় ১০ একর জায়গাজুড়ে ময়লার ভাগাড়। চসিক সূত্র মতে, দৈনিক তেরশ’ টনের বেশি পরিমাণ ময়লা জমা হয় এই ভাগাড়ে। মানুষের ফেলে দেওয়া ময়লা থেকে প্লাস্টিক, ইস্পাত, লোহার অংশ সংগ্রহ করে এক শ্রেণীর টোকাই। টোকাই থেকে এসব ময়লা যায় মহাজনদের কাছে। মহাজন থেকে কারখানায় গিয়ে রূপ নেয় কাঁচামালে। তারপর প্লাস্টিক, চামড়া ও কাঁচ থেকে শুরু করে লোহার ইস্পাত তৈরিতে ব্যবহার করা হয় এই ময়লা ভাগাড়ের কাঁচামাল। এছাড়াও ফেলে দেওয়া শাক সবজি অংশ বিশেষ থেকে তৈরি হচ্ছে সিটি নাইট্রেজেন সার।

জানা যায়, ময়লার ডিপোর আশপাশে আছে ৫০টির ও বেশি ভাঙারি দোকান। সেসব দোকানিরা টোকাইদের সংগ্রহ করা বস্তাভর্তি মালামাল কিনে নিয়ে বিভিন্ন শ্রেণীতে (ওদের ভাষায় কালার) বাছাই করেন। একদিকে রাখা হয় প্লাস্টিক-পলিথিন, অন্যদিকে রাখা হয় লোহা, হাড়, ও কাঁচ। এরপর প্লাস্টিক চলে যায় স্থানীয় রিসাইকেলিং ফ্যাক্টরিতে। পরে পরিষ্কার করে ধুয়ে শুকানোর পর কার্টার মেশিনে কুচি কুচি করে কেটে বস্তা বন্দি করা হয়। অন্যদিকে পরিত্যক্ত লোহা জমিয়ে ট্রাকবোঝাই করে চলে যায় ইস্পাত তৈরির কারখানায়। এদিকে নানান কালারের তথা বিভিন্ন রকমের মালামাল বিক্রি হয় একেক দামে। এছাড়াও একেক প্রকার মালামালের হিসাব করা হয় ভিন্ন এককে। প্রতি পাউন্ড প্লাস্টিক বিক্রি হয় ১৭ থেকে ৪০ টাকায়, কেজি প্রতি লোহা বিক্রি হয় ৬০ টাকা দরে। অন্যদিকে রাবার বিক্রি হয় কেজি প্রতি ৭ থেকে ৮ টাকায়, গরুর হাড় বিক্রি হয় টন প্রতি ৪৫ টাকা দরে।

প্রতিটি ছোট বড় ভাগাড়ি দোকানে গড়ে প্রতি মাসে লেনদেন হয় ৩ থেকে ৪ লাখ টাকা। যা বছরে দাঁড়ায় অর্ধ কোটি টাকায়। এই ভাঙাড়ি দোকানের মহাজন মো. সাহাবুদ্দিন। একান্ত সাক্ষাতে তিনি বলেন, মাসে ৩ থেকে ৪ লাখ টাকা লেনদেন হয়। এর মধ্যে কর্মচারী,টোকাই এসবের খরচ মিটিয়ে তার আয় হয় ৫০-৬০ হাজার টাকা।

এছাড়া এসব ময়লার ভাগাড়কে ঘিরে রুটি-রুজির পথ তৈরি করেছে কিছু নিম্ন শ্রেণীর মানুষ। গত দুই যুগ ধরে শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে ময়লা সংগ্রহ করে আসছে ৬০ বছরের মারুফা বেগম। পরে এই ময়লার ভাগাড় সৃষ্টির পর পরিবার নিয়ে চলে আসে হালিশহর এলাকায়। বর্তমানে মারুফা, তার মেয়ে ও নাতি সহ তিনজন সকাল থেকে নেমে পড়ে ময়লা থেকে প্লাস্টিক ও নানান বস্তু সংগ্রহে। তিন প্রজন্মের হাত ধরে দৈনিক ৮ বস্তা মালামাল সংগ্রহ করে তাঁরা। পরে ভাঙারির দোকানে ওজন মেপে কেজি প্রতি ৫০ থেকে ৭০ টাকা দরে বিক্রি করা হয়।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নঈম হাসান চৌধুরী বলেন, নগরের ময়লা আবর্জনার কারণে পরিবেশ দূষণে সরাসরি যোগসূত্র আছে। আর এইটা বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত। আমাদের উচিত রিসাইকেলিং-কে কেবল ময়লা আবর্জনার মতো না দেখে এর সঠিক ব্যবহার করা উচিত। তাছাড়া রিসাইকেলিং নিয়ে সরকার ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন বিশেষ নজর দিলে অবশ্যই বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এর বিশেষ প্রভাব পড়বে, বাড়বে কর্মসংস্থান।

এই সম্পর্কিত অন্যান্য খবর