চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান এ টি এম পেয়ারুল ইসলাম পূর্বকোণের সাথে এক প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, গত ১৭ অক্টোবর জেলা পরিষদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে আমাকে নির্বাচিত করায় চট্টগ্রামের সর্বস্তরের জনতাকে শ্রদ্ধা, সম্মান এবং কৃতজ্ঞতা জানাই। ভোটারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলতে চাই চট্টগ্রামের সার্বিক উন্নয়নে এক সাথে কাজ করবো। এই বিজয় চট্টগ্রামবাসীর প্রতি উৎসর্গ করে বলেন, এই বিজয় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিজয়। যেহেতু তিনি চট্টগ্রামের উন্নয়নের ভার নিজের হাতে নিয়ে সার্বিক উন্নয়ন করছেন। চট্টগ্রামের উন্নয়নযজ্ঞের জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি সম্মান জানিয়ে স্থানীয় সরকারের জনপ্রতিনিধিরা বিপুল ভোট দিয়ে আমাকে বিজয়ী করেছেন।
উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান এটিএম পেয়ারুল ইসলাম ১৯৬০ সালের ১০ আগস্ট ফটিকছড়ি উপজেলার নানুপুর ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৩০ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্র্যাজুয়েশন করা সরকারি কর্মকর্তা মরহুম আবুল ফজল বি.এ ও আমেনা বেগমের সন্তান তিনি।
তার দাদা তোফায়েল আহমেদ চৌধুরী ছিলেন ব্রিটিশ আমলের আইনজীবী, সমাজসেবক ও শিক্ষাবিদ। নানা প্রখ্যাত জমিদার মোখলেছুর রহমান চৌধুরী ও মামা বিশিষ্ট সমাজসেবক, শিক্ষানুরাগী ও দানবীর আদালত খান। সাবেক এমপি ও রাষ্ট্রদূত নুরুল আলম চৌধুরী, রাজনীতিবিদ ও ভাষা সৈনিক এডভোকেট এমদাদুল ইসলাম, এডভোকেট রফিকুল আলম ও ন্যাপ নেতা এমএম শহীদুল্লাহর খালাতো ভাই তিনি।
তার শ্বশুর বীর মুক্তিযোদ্ধা কর্নেল (অব.) আবু তাহের সালাহউদ্দীন বীর প্রতীক। তিনি দুই পুত্র সন্তানের জনক। জেষ্ঠ্য সন্তান ও পুত্রবধূ সরকারের পদস্থ কর্মকর্তা। ছোট ছেলে বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত।
ব্যক্তিগত জীবনে তিনি সফল ব্যবসায়ী ও শিল্প উদ্যোক্তা। এটিএম পেয়ারুল ইসলাম ২০১৪ সালে সফল উদ্যোক্তা হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে জাতীয় পুরস্কার লাভ করেন। তিনি প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের (গাড়ি তৈরির কারখানা) পরিচালকের দায়িত্ব পালনকালে দুর্বল প্রতিষ্ঠানটিকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত করেন।
বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের অধিকারী এটিএম পেয়ারুল ইসলাম ১৯৭৪ সালে মাইজভাণ্ডার আহমদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের স্কুল-ছাত্র সংসদে নির্বাচিত জিএস হিসেবে রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন। ১৯৭৯ সালে নির্বাচিত হন নাজিরহাট কলেজ ছাত্র সংসদের ভিপি। ছিলেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি এবং বাংলাদেশ ‘ল’ স্টুডেন্টস ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাচিত সভাপতি। বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক, নব্বইয়ের ছাত্র গণ-আন্দোলনের ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতা ছিলেন। ১৯৯০ সালে ফটিকছড়ি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ঢাকাস্থ চট্টগ্রাম সমিতির নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক এবং ফটিকছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেন।
বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি। এটিএম পেয়ারুল ইসলাম ২০০৮ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফটিকছড়ি সংসদীয় আসন থেকে মহাজোটের প্রার্থী ছিলেন। আন্দোলন সংগ্রাম করতে গিয়ে তিনি বারে বারে কারা নির্যাতিত ও একাধিক বার মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েও আল্লাহর রহমতে রক্ষা পান। আপোষহীন, সাহসী, দৃঢ়চেতা, সৎ ও পরিচ্ছন্ন রাজনীতিক হিসেবে এটিএম পেয়ারুল ইসলাম একটি জননন্দিত নাম।








