বর্তমান সময়ে যখন অনেক কাজই ব্যক্তিস্বার্থের সাথে জড়িত, তখন নিঃস্বার্থভাবে মানবতার সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করেছেন বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্য ও সমাজকর্মী সরোয়ার উদ্দিন আনসারী। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে তিনি জরুরি রক্তের ব্যবস্থা, স্বেচ্ছায় রক্তদান, অসহায় রোগীদের সহযোগিতা, এতিম ও পথশিশুদের খাদ্য বিতরণ এবং বিভিন্ন দুর্যোগে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন।

জানা যায়, সরোয়ার উদ্দিন আনসারী ইতোমধ্যে হাজারেও বেশি রোগীর জন্য জরুরি রক্তের ব্যবস্থা করেছেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ফোন পেয়ে তিনি রাত-দিনের ভেদাভেদ না করে রক্তদাতা খুঁজে বের করেন এবং রোগীদের পাশে দাঁড়ান। তার এই নিরলস প্রচেষ্টায় অসংখ্য রোগী সময়মতো রক্ত পেয়ে নতুন জীবন ফিরে পেয়েছেন।
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই মানবিক কাজের জন্য তিনি কখনো কোনো রোগী, রোগীর স্বজন কিংবা রক্তদাতার কাছ থেকে অর্থ, উপহার বা ব্যক্তিগত সুবিধা গ্রহণ করেন না। বরং রক্তদাতাদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া ও পৌঁছে দেওয়ার জন্য নিজের ব্যক্তিগত মোটরসাইকেল ব্যবহার করেন এবং জ্বালানি খরচও নিজেই বহন করেন।

রক্তসেবার এই কার্যক্রম পরিচালনা করতে গিয়ে প্রতি মাসে তার মোবাইল বিল বাবদ প্রায় ২ থেকে ৩ হাজার টাকা ব্যয় হয়। অসংখ্য ফোনকল, রক্তদাতাদের সাথে যোগাযোগ, রোগীর স্বজনদের তথ্য প্রদান এবং জরুরি সমন্বয়ের জন্য এই ব্যয় তাকে নিজস্ব অর্থ থেকেই বহন করতে হয়। তবুও মানবসেবার এই পথ থেকে তিনি কখনো পিছিয়ে যাননি।
শুধু রক্তসেবাই নয়, সমাজের অবহেলিত মানুষের কল্যাণেও নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। বিভিন্ন সময়ে এতিম ও পথশিশুদের মাঝে খাবার বিতরণ, ইফতার আয়োজন, শীতবস্ত্র বিতরণসহ নানা মানবিক উদ্যোগে অংশগ্রহণ করে আসছেন। এছাড়াও বন্যা, ঘূর্ণিঝড় ও অন্যান্য দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন।
বিশেষভাবে গত তিন বছর ধরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দূর-দূরান্ত থেকে আগত অসহায় ও দরিদ্র রোগীদের ভর্তি সংক্রান্ত সহযোগিতা, রক্তের ব্যবস্থা, তথ্যসেবা এবং বিভিন্ন প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করে প্রশংসা অর্জন করেছেন। হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা বহু রোগী ও স্বজন তার মানবিক সহযোগিতার কথা কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করেন।
স্থানীয় সামাজিক সংগঠন ও সচেতন মহলের মতে, সরোয়ার উদ্দিন আনসারীর মতো মানুষই সমাজে মানবতার আলো ছড়িয়ে দিচ্ছেন। কোনো আর্থিক লাভ বা স্বীকৃতির আশায় নয়, বরং মানুষের জীবন বাঁচানো এবং বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতা থেকেই তিনি এই কাজ করে যাচ্ছেন।

সরোয়ার উদ্দিন আনসারী বলেন, একজন রোগী যখন সময়মতো রক্ত পেয়ে সুস্থ হয়ে ওঠেন, তখন সেই হাসিই আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।
আমি বিশ্বাস করি, মানবতার সেবার চেয়ে বড় কোনো কাজ নেই। যতদিন সম্ভব, মানুষের জন্য কাজ করে যেতে চাই।
নিঃস্বার্থ সেবা, মানবিক মূল্যবোধ এবং মানুষের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসার মাধ্যমে সরোয়ার উদ্দিন আনসারী আজ অনেকের কাছে অনুপ্রেরণার নাম ভালোবাসার পাত্র।








