অস্তিত্ব রক্ষায় ইরানের পক্ষে লড়াইয়ে শামিল হিজবুল্লাহ

প্রকাশ:

১৫ মাসেরও বেশি সময় ধরে হিজবুল্লাহ কার্যত একতরফা যুদ্ধবিরতি পালন করে আসছিল। কোনো প্রতিক্রিয়া না জানিয়েই ইসরায়েলের প্রায় প্রতিদিনের হামলা সহ্য করে যাচ্ছিল তারা। অবস্থা এমন দাঁড়াচ্ছিল, মনে হচ্ছিল এক সময়ের ভয়ংকর আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে পরিচিত গোষ্ঠীটির পতন হয়ে গেছে। তবে হিজবুল্লাহ সাদা পতাকা ওড়াতে (আত্মসমর্পণ করতে) প্রস্তুত ছিল না।

তারা অবাধ্যতা প্রদর্শন করে আসছিল ও অস্ত্র ত্যাগের আহ্বান প্রত্যাখ্যান করে আসছিল।

অবশেষে তারা পাল্টা আঘাত হেনেছে। এই হামলা কেবল ইসরায়েলি লঙ্ঘনের প্রতিক্রিয়ায় নয়, বরং চলমান আঞ্চলিক যুদ্ধে ইরানের পক্ষে তাদের অবশিষ্ট সক্ষমতাটুকু পাল্লায় তুলে দিতেই এই পদক্ষেপ।

ইরান হিজবুল্লাহর প্রধান পৃষ্ঠপোষক, অর্থদাতা ও অস্ত্র সরবরাহকারী হিসেবে কাজ করে আসছে।

তেহরানকে ছাড়া হিজবুল্লাহর পক্ষে তাদের অস্ত্রভাণ্ডার পুনর্গঠন করা, যোদ্ধাদের বেতন দেওয়া বা সামাজিক কর্মসূচি চালানো কঠিন হয়ে পড়বে।

তাই ইরানের শাসনব্যবস্থার টিকে থাকার লড়াই হিজবুল্লাহর জন্য একটি অস্তিত্বের বিষয়। লেবানিজ এই গোষ্ঠীটি সম্ভবত শক্তির বর্তমান ভারসাম্য পরিবর্তনের দিকেও নজর দিচ্ছে, যা কার্যত ইসরায়েলকে লেবাননে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার অবাধ স্বাধীনতা দেয়।

তবে চলমান সংঘাতের মধ্যে তারা ইসরায়েলের ক্ষতি করতে পারবে কি না বা ইরানকে অর্থবহ কোনো সাহায্য করতে পারবে কি না তা স্পষ্ট নয়।

গোষ্ঠীটির প্রাথমিক হামলায় কয়েকটি রকেট অন্তর্ভুক্ত ছিল, যার ফলে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় ইসরায়েলের গণহত্যা শুরু হওয়ার পর থেকে হিজবুল্লাহ হাজার হাজার যোদ্ধা হারিয়েছে। ধারণা করা হয়, তাদের সামরিক শাখা উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া তারা এমন এক লেবানিজ জনতাকে সামলাচ্ছে, যারা যুদ্ধ ও সংকটে ক্লান্ত।

প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালামসহ হিজবুল্লাহর অভ্যন্তরীণ বিরোধীরা ইতোমধ্যে ইসরায়েলে হামলার নিন্দা জানিয়েছেন।

তাদের মতে, এটি লেবাননের বিরুদ্ধে ইসরায়েলিদের সীমা লঙ্ঘনকে আরও উৎসাহিত করবে।

সূত্র: আল জাজিরা

এই সম্পর্কিত অন্যান্য খবর