চট্টগ্রাম ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালের নিচ তলায় জরুরি বিভাগের পাশেই একটি রুমে দীর্ঘদিন ধরে একটি নোটিশ ঝুলছে। নোটিশে লেখা- ‘জলাতঙ্কের টিকা সরবরাহ সাময়িকভাবে বন্ধ। রোগীদের বাইরে থেকে টিকা কিনতে হবে।’ যেখানে দিন রাত ২৪ ঘণ্টা বিনামূল্যে জলাতঙ্কের টিকা দেওয়া হতো। এখন বাইরে থেকে ৪৫০ টাকা দিয়ে টিকা কিনে রোগীদের দিতে হচ্ছে। এতে গরিব রোগীরা চরম বিপাকে পড়েছেন। শুধু জেনারেল হাসপাতালেই না বর্তমানে চট্টগ্রামের ১৫টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও নেই বিনামূল্যের এই টিকা।
চট্টগ্রাম শহরের আন্দরকিল্লায় অবস্থিত হাসপাতালটি আন্দরকিল্লা জেনারেল হাসপাতাল নামেও পরিচিত। আর এ হাসপাতালের ওপরেই চট্টগ্রামের মানুষ জলাতঙ্কের টিকার জন্য সবচেয়ে বেশি নির্ভরশীল। যদিও ফৌজদারহাটে অবস্থিত বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস (বিআইটিআইডি) হাসপাতালেও বিনামূল্যে জলাতঙ্কের টিকা দেওয়া হচ্ছে। তবে সেটি শহর থেকে দূরে হাওয়ায় মহানগরীর ভেতরে বা উপজেলা পর্যায়ে কেউ কুকুর, বিড়াল দ্বারা আক্রান্ত হলে সবাই আন্দরকিল্লা জেনারেল হাসপাতালে ছুটে আসেন।
কুকুর, বিড়াল, গবাদি পশু, বন্যপ্রাণী ও পোষা প্রাণী কামড় বা আঁচড় দিলে র্যাবিস ইমিউনোগ্লোবুলিন টিকাটির তিন ডোজ নিতে হয়। কামড়ের দিন প্রথম ডোজ, তৃতীয় দিন দ্বিতীয় ডোজ এবং সপ্তম দিন তৃতীয় ডোজ নিতে হয়। ৫ মিলিগ্রামের একটি টিকা চারজনকে দেওয়া যায়।
বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) দুপুরে রাউজান থেকে ছেলেকে নিয়ে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে আসেন সৈয়দ আলম। তিনি জানান, তার ছেলেকে পোষা বিড়াল আঁচড় দিয়েছে। রাউজান স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে টিকা নেই। তাই বাধ্য হয়ে জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে এসেছেন। এসে দেখেন এখানেও টিকা নেই। ফার্মেসি থেকে কিনতে হবে। বাড়িতে খবর দিয়েছেন টাকার জন্য। বিকাশে টাকা পাঠালে টিকা দিয়ে বাড়ি যাবেন। শুধু সৈয়দ আলম নয়, আরও বেশ কয়েকজনকে দেখা গেছে যারা বিনামূল্যে টিকা পাওয়ার আশায় হাসপাতালে এসেছেন। কিন্তু টিকা না পেয়ে বাইরে থেকে কিনে এনে ঠিকা দিয়েছেন। তবে দীর্ঘদিন টিকা না থাকার বিষয়টি জানেন না চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক (ভারপ্রাপ্ত) ডা. আকরাম হোসেন। বিষয়টি তার জানা ছিল না উল্লেখ করে বলেন, খোঁজ নিয়ে টিকা আনার ব্যবস্থা করা হবে।
সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এই হাসপাতালে জলাতঙ্কের টিকা সংকটের বিষয়টি এক দিনের নয়। কিছুদিন পর পর এখানে টিকার সংকট দেখা দেয়। অথচ এই হাসপাতালে প্রতিদিন প্রায় ৬০ থেকে ৭০ জন রোগী টিকা নিতে আসেন। বিনামূল্যের এই টিকার ব্যাপারে হাসপাতালের দায়িত্বশীলরাও তেমন সচেতন নয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, স্বাস্থ্য, জনসংখ্যা ও পুষ্টি সেক্টর কর্মসূচি (এইচপিএনএসপি) শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় এই টিকা কেনা হতো। গত বছরের জুলাইয়ে প্রকল্প শেষ হওয়ায় সরকারের সরাসরি অর্থে টিকা কেনার সিদ্ধান্ত হয়। এরপর থেকে কিছুদিন পরপর টিকার সংকট দেখা দিচ্ছে।








