চট্টগ্রাম থেকে অপহরণ করে মিয়ানমারে নিয়ে মুক্তিপণ দাবি

প্রকাশ:

চট্টগ্রামের চান্দগাঁও থেকে তিন ব্যক্তিকে চাকরি দেওয়ার নামে অপহরণ করে নিয়ে যায় মিয়ানমারে। এরপর বন্দি রেখে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হচ্ছে পরিবারের কাছে।

এ ঘটনায় নগরের চান্দগাঁও থানায় মামলা হলে দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে অপহরণ হওয়া তিন ব্যক্তিকে এখনও উদ্ধার করতে পারেনি।

অপরহরণ হওয়া তিনজন হলেন- শাকিল (২০), মোমিন (১৮) ও শাহিন (২৩)। তারা পেশায় দিনমজুর। তাদের মাসে ২০ হাজার টাকায় চাকরি দেওয়ার কথা বলে প্রথমে টেকনাফ নিয়ে যায়। পরে টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে মায়ানমার নিয়ে আটক করে রাখা হয়।

পারিবারিক সূত্র মতে, গত ১১ অক্টোবর সকালে চাকরির কথা বলে প্রথমে মোমিনকে নিয়ে যাওয়া হয় টেকনাফে। পরে গত রবিবার (১৫ অক্টোবর) নিয়ে যাওয়া হয় শাকিল ও শাহিনকে। এরপর এদের পরিবারে কাছে টাকা চাওয়া হয়। এ ছাড়াও ভিডিও কলে দেখানো হয় নির্যাতনের চিত্র।

মোমিনের মা মুরশেদা বেগম বলেন, ‘আমাকে ফোনে ভিডিওকলের মাধ্যমে দেখানো হয়েছে আমার ছেলের ওপর নির্যাতন। আমি কিভাবে সহ্য করবো ? তাদের চাওয়া টাকা কোত্থেকে দিব? আমি গরিব নিরীহ লোক।’

শাকিলের স্ত্রী শাহিনুর আক্তার বলেন, ‘আমার স্বামী রিকশা চালিয়ে আমাদের সংসার চালায়। আরমান ও ইয়াসিন নামের দুই ব্যাক্তি আমার স্বামীকে ২০ হাজার টাকা বেতন দেওয়ার কথা বলে টেকনাফ নিয়ে গেছেন। আমি এখন কি করবো ভেবে পাচ্ছি না। তারা আমার কাছ থেকে টাকা চায়। তিনজনকে মিলে ১০ লাখ টাকা দিতে হবে বলছে। আমরা পুলিশকে জানিয়েছি।’

এ ঘটনার পর মঙ্গলবার (১৭ অক্টোবর) শাহিনের মা মেহেরুন্নেসা বাদী হয়ে চান্দগাঁও থানা একটি মামলা করেন। তিনি মামলায় ঘটনার বিবরণে উল্লেখ করেন, স্থানীয় দুই ব্যক্তি আরমান ও ইয়াসিনের প্ররোচনায় তাদের চাকরি দেওয়ার কথা বলে তাদের টেকনাফ নেওয়া হয়। ফলে পুলিশ আরমান ও ইয়াসিনকে গ্রেপ্তার করেছে। কিন্তু অপহরণ হওয়া তিনজনকে উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ।

এ ঘটনায় চান্দগাঁও থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) হৃদয় মাহমুদ লিটন বলেন, ‘অপহরণ হওয়ার ঘটনায় জড়িত দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মাধ্যমে যোগাযোগ করে অপহরণ হওয়ার তিনজনকে উদ্ধার করার চেষ্টা করা হচ্ছে’।

এই সম্পর্কিত অন্যান্য খবর