দীর্ঘ ১০ বছর পর ঢাকায় সমাবেশের অনুমতি পেয়ে অল্প দিন আগেই বড় সমাবেশ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। সেই সমাবেশের পর চট্টগ্রাম ও সিলেটে জামায়াত নেতাকর্মীদের মধ্যেও একটা চাঙ্গা ভাব দেখা দিয়েছিল। এ কারণে এই দুই বিভাগীয় শহরে বড় সমাবেশ করার প্রস্তুতি নিচ্ছিল জামায়াত। তবে আবেদন করেও সমাবেশ করার অনুমতি পায়নি দলটি। সমাবেশের অনুমতি না দেওয়ার প্রতিবাদে আগামীকাল শুক্রবার বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে দলটি। তবে সে বিক্ষোভ মিছিলের জন্যও চাওয়া হয়েছে পুলিশের অনুমতি।
শুক্রবার জুমার নামাজের পর চট্টগ্রামের আন্দরকিল্লা চত্বর থেকে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে জামায়াত। চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের প্রচার সম্পাদক আবু হেনা মোস্তফা কামাল বলেন, ‘মূলত তিন দফা দাবিতে এই বিক্ষোভ মিছিল আর মিছিলপূর্ব সমাবেশ করব আমরা। সেগুলো হলো কেন্দ্রীয় নেতা ও আলেম-উলামাদের মুক্তি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির লাগাম টানা আর সভা-সমাবেশ করতে না দেওয়ার প্রতিবাদ।’
এদিকে সিলেটেও একই দাবিতে শুক্রবার বিকাল ৪টায় নগরীর সিটি পয়েন্ট থেকে চৌহাট্টা পর্যন্ত মিছিল করার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ সময় একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশও করার পরিকল্পনা রয়েছে দলটির। মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি মো. শাজাহান আলী বলেন, ‘বিক্ষোভ মিছিলের বিষয়ে গত সোমবার সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) কমিশনার বরাবর লিখিত আবেদন করা হয়েছে। আমরা পুলিশ কমিশনারকে জানিয়েছি, দেশের প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দল মাঠে। শুধু আমাদের মাঠে নামতে দেওয়া হচ্ছে না, এটা অগণতান্ত্রিক। আমরা মাঠে সর্বোচ্চ শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রেখে বিক্ষোভ করব বলে পুলিশকে জানিয়েছি।’
চট্টগ্রামেও সভা-সমাবেশের অনুমতি না দেওয়ার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করতে চেয়ে লিখিতভাবে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের অনুমতি চেয়েছে জামায়াত। গত সোমবার দলটির আইনজীবীরা চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ কমিশনার কার্যালয়ে চিঠি দেন, তবে এখনও এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত দেয়নি পুলিশ। এর আগে ২২ জুলাই চট্টগ্রামে সমাবেশ করার অনুমতি চেয়ে দুই দফা আবেদন করেছিল দলটি। তবে দুই দফাতেই পুলিশের অনুমতি পায়নি তারা।
দীর্ঘদিন ঝটিকা মিছিল করে আসা জামায়াত এবার চট্টগ্রামে ঘোষণা দিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করার কথা জানিয়েছে। তবে প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া এখনই কোনো কর্মসূচিতে যেতে আগ্রহী না দলটি। তাই শেষ পর্যন্ত এই কর্মসূচি পালন না করার ইঙ্গিত মিলছে দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে। জামায়াতের তৃণমূল পর্যায়ের একাধিক কর্মীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শুক্রবারের বিক্ষোভ মিছিলের বিষয়ে কোনো নির্দেশনা তারা পাননি। অনুমতি না পেলে এই মিছিলটিও করার পক্ষে না দলটির নেতারা। তৃণমূলের কর্মীদের এমন বার্তাই দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা পর্যায়ের জামায়াতের রাজনীতিতে সক্রিয় একজন বলেন, ‘এখনই হার্ড লাইনে যাচ্ছে না জামায়াত। নেতাদের কথা অনুযায়ী যা বুঝলাম সরকারের দায়িত্বশীলদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে বুঝিয়ে-শুনিয়ে কর্মসূচি পালনে জোর দিচ্ছেন তারা। এখনই প্রশাসনের চোখে চোখ রেখে রাজপথে নামতে চাচ্ছে না নীতিনির্ধারকরা। আরও মাস দুয়েক এই ধারা থাকবে।’
অনুমতি না পেলে বিক্ষোভ মিছিল করবেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের প্রচার সম্পাদক আবু হেনা মোস্তফা কামাল বলেন, ‘আশা করছি অনুমতি পাব। অনুমতি ছাড়া কর্মসূচি পালন করাকে আমরা শোভনীয় মনে করছি না। তবে সভা-সমাবেশ করা আমাদের রাজনৈতিক অধিকার। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে সেটা করতে চাই।’
একই সুর চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমির আজম ওবায়দুল্লাহর কথায়ও। তিনি বলেন, ‘আমরা নিয়মতান্ত্রিকভাবেই আগাব। এ জন্যই আমরা অনুমতি চাইছি। ঢাকায় আমরা সমাবেশ করেছি। সবাই দেখেছে কী সুশৃঙ্খল আর শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ হয়েছে। কিন্তু চট্টগ্রামে আমরা দুই দফা আবেদন করেও অনুমতি পাইনি। এটা দুঃখজনক।’
সিলেটে এর আগে ১৫ ও ২১ জুলাই নগরীর রেজিস্ট্রারি মাঠে বিভাগীয় সমাবেশ করার জন্য দুই দফা উদ্যোগ নিয়েছিল জামায়াতে ইসলামী। কিন্তু পুলিশের অনুমতি না পাওয়ায় সমাবেশ করতে পারেনি। এ অবস্থায় বিক্ষোভ মিছিল করার সিদ্ধান্ত নেয় দলটি। নগরীতে মিছিলের অনুমতি চেয়ে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার বরাবর একটি লিখিত আবেদনও করেছে মহানগর জামায়াত। তবে এখন পর্যন্ত পুলিশের পক্ষ থেকে তাদের কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।
বিষয়টি নিশ্চিত করে সিলেট মহানগর জামায়াতের আমির মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে শুক্রবার নগরীতে এই বিক্ষোভ মিছিল করতে চাই। এ জন্য পুলিশের সহযোগিতা চেয়ে আবেদন করেছি। মিছিলের মতো সংক্ষিপ্ত প্রোগ্রাম করতে প্রশাসনকে শুধু অবহিত করলেই চলে, এরপরও লিখিতভাবে অনুমতি চেয়েছি। আশা করি আমাদের সুযোগ দেওয়া হবে।’
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সর্বশেষ গত বছরের ২৪ ডিসেম্বর নগরীতে বড় ধরনের শোডাউন করা হয়েছিল। এরপর আর বড় কোনো মিছিল-সমাবেশ হয়নি। প্রায় সাত মাস পর কেন্দ্রঘোষিত এ কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
সিলেট উত্তর জেলা জামায়াতের আমির আনোয়ার হোসেন খান বলেন, ‘কেন্দ্রীয় কর্মসূচি সফলের লক্ষ্যে আমাদের প্রস্তুতি চলছে। শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি সম্পন্ন করতে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করছি।’
এ বিষয়ে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) উপকমিশনার আজবাহার আলী শেখ বলেন, জামায়াত বিক্ষোভ মিছিল করার জন্য একটি লিখিত আবেদন করেছে। এ বিষয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তাদের কর্মসূচি ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হবে কি না, এ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে পুলিশ।








